top of page

যে ৮ কারণে অবশ্যই ভ্রমণ করা উচিত

নতুন কিছুকে জানার, নতুন কিছু আবিষ্কার করার অদম্য ইচ্ছা মানবজাতির সহজাত প্রবৃত্তি। তাই তো সেই প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ তার কৌতূহল মেটানোর জন্য বেরি

য়ে পড়েছে ঘরের চৌকাঠ পেরিয়ে। মানবজাতির এই স্বভাব তাদেরকে দিয়েছে ভ্রমণের শিক্ষা। ভ্রমণ মানুষের জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের ভ্রমণ প্রয়োজন হয়ে থাকে।   ভ্রমণ আমাদেরকে মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে৷ ভ্রমণের মধ্যমে একজন গড়ে তুলতে পারে অভিজ্ঞতার পাহাড় যা তাকে জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে ও প্রতিটি ধাপে সাহায্য করে যাবে এবং করে তুলবে তাকে সফল ও পরিপূর্ণ। তাই মানবজাতির সর্বোপরি উন্নতি ও বিকাশে ভ্রমণের গুরুত্ব অপরিসীম। চলুন তবে দেখে নেই ভ্রমণ কিভাবে আমাদের জীবনে এতো প্রভাব ফেলে চু ১. চিত্তবিনোদন - বর্তমানে ভ্রমণের সবচেয়ে বড় উদ্দ্যেশ্য হলো চিত্তবিনোদন। নিত্যদিনের কাজের চাপ এবং জীবনের নানা সমস্যা থেকে কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে যেতে কার না ইচ্ছে হয়। আর এভাবে হারিয়ে যাবার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ভ্রমণ। বছরে একটি বা দুটি ভ্রমণই সারা বছরের বাকি সময়ের কাজের সকল ক্লান্তি কাটিয়ে নিয়ে যেতে যথেষ্ট। তাই ভ্রমণ চিত্তবিনোদনের একটি অনন্য উপায়। ২.জ্ঞানার্জন - মানব সভ্যতার শুরু থেকেই জ্ঞানার্জনের জন্য মানুষ বহুদূরের পথ অতিক্রম করত। তারা পায়ে হেটে মাইলের পর মাইল পারি দিয়ে অন্য কোনো দেশ এমনকি মহাদেশে চলে যেত জ্ঞানের সন্ধানে। পৃথিবীর প্রতিটি জাতিরই রয়েছে তাদের নিজ নিজ অনন্য বৈশিষ্ট্য । এই সমস্ত বিষয়ে জানতে হলে আপনাকে বিভিন্ন জাতির শরনাপন্ন হতেই হবে। এছাড়াও কোনো নতুন দেশে ভ্রমণ করলে সে দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, সংস্কৃতি,ভাষা ইত্যাদি বিষয়ে পুংখানুপুংখভাবে জ্ঞান অর্জন করা যায়। ৩. মানসিক বিকাশ- ভ্রমণের মাধ্যমে যে কাজটি সবচেয়ে ভালো হয় তা হলো- মানসিক বিকাশ এবং মানসিক শক্তি ও স্থিতিশীলতার বৃদ্ধি। কারণ নিজের গতবাধা জীবন থেকে বের হয়ে হঠাৎ করে নতুন পরিবেশে ও নতুন মানুষের মধ্যে নিজেকে চালাতে ব্যাপক মানসিক শক্তির প্রয়োজন হয়। তাই যতবারই আপনি ভ্রমণে বের হন আপনি নিজের মানসিক শক্তি এবং মস্তিষ্ককে শাণিত করছেন। ৪.বিভিন্ন ভাষার সাথে পরিচয় - আপনি ভ্রমণে বের হলে আপনাকে নতুন জায়গার ভাষা একটু হলেও আপনাকে শিখতে হয় যার ফলে আপনার ভাষাজ্ঞান বাড়ে। আবার কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে নতুন কোনো ভাষায় কথা বলা হলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাই এর পরের বার যেখানেই ঘুরতে যান না কেন, স্থানটির ভাষা সম্পর্কে ধারণা নিয়ে যাবেন। ৫. নতুন দৃষ্টিভংগী - ভ্রমণের মাধ্যমেই আপনি পারবেন পুরো বিশ্বকে সম্পুর্ণ নতুনভাবে অন্যের চোখ দিয়ে দেখতে। ভ্রমণের মাধ্যমে আপনি সম্পুর্ণ ভিন্ন কোনো স্থানে বসবাসকারী,ভিন্ন জাত- ধর্মের মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে সবকিছু দেখতে পারবেন। আপনি তখনই জীবনের আরো গভীরে প্রবেশ করতে পারবেন। ৬. নতুন জীবিকার সন্ধান- ভ্রমণ করলে অন্য দেশের পেশা এবং ব্যবসা বাণিজ্য সম্বন্ধে ধারণা পাবেন। সেই পেশা বা ব্যবসাকে আপন করে নিয়ে আপনি খুজে পেতে পারেন জীবনের উদ্দেশ্য।আবার জীবনকে নিজের মতো সাজিয়ে নিয়ে সফলতার মানে গুছিয়ে নিয়ে পরদেশে জীবন কাটিয়েও দিতে পারেন। ৭. স্মৃতি তৈরি করা - আপনি ভ্রমণপিপাসু হলে অবশ্যই আপনি নিজের ভ্রমণগুলো থেকে স্মৃতি আহরণ করে থাকেন। আর এই স্মৃতিগুলো থেকে পরবর্তীতে আপনার জীবনে অমূল্য সম্পদ হয়ে উঠবে। ৮. নিজেকে জানা - আপনি যত বেশি ভ্রমণ করবেন, ততই আপনি নিজের সম্পর্কে ও নিজের ক্ষমতার সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানতে পারবেন। আর তা থেকেই নিজেকে নিয়ে সুন্দর পরিকল্পনা করতে পারবেন। তাই এখন আর দেরি না করে, বেরিয়ে পড়ুন কোনো এক ভ্রমণ আ্যডভেঞ্চার এ ।যা আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বহুদূর।

74 views0 comments

Comments


bottom of page