স্টার্টআপ এর জন্য ডিজিটাল ব্র‍্যান্ডিং আইডিয়া

  ধরুন, আপনি একদিন কারো সাথে দেখা করতে গিয়েছেন এবং যার সাথে দেখা করতে গিয়েছেন সে আপনার নাম-ধাম কিছুই জানে না। কিন্তু তাকে আপনার যেকোনো মূল্যেই খুশি করতে হবে। সেজন্য আপনি তার সামনে এমনভাবে ড্রেস-আপ করবেন যাতে আপনার প্রতি ঐ মানুষটির মনোভাব ঠিক তাই দাঁড়ায় যা আপনি চাচ্ছেন। অর্থাৎ আপনাকে যেন পছন্দ হয়। আপনি এমন আবে তার সাথে কথা বলবেন যাতে সেই মানুষটি আপনাকে আরও জানতে চায়। আপনাকে বুঝতে চায়। আর এই ব্যাপারগুলো যদি ঠিকঠাক মতো হয়ে যায় তাহলে আপনি তার সাথে দ্বিতীয়বার দেখা করার প্রস্তাব পেশ করতে পারবেন।  ব্র‍্যান্ডিং এর ব্যাপারগুলো অনেকটা এমনি। আপনার কাজগুলোর ক্ষেত্রে আপনাকে কেউ চেনে না, জানে না। আপনার ব্যবহার কেমন এবং আপনার সার্ভিস কেমন সেটাও কেউ জানে না। তাই আপনার ব্যবহার এবং সার্ভিস দ্বারাই আপনার ক্লায়েন্টরা আপনার সাথে এবং আপনার কোম্পানীর সাথে পরিচয় হয় এবং সেই পরিচয় যদি সুখকর হয় তবে তারা দ্বিতীয়বার পণ্য কিনতে আপনার কোম্পানীর সাথেই যোগাযোগ করবে।  অনেকেই মনে করেন কোম্পানীকে লাভবান কোম্পানীর তালিকায় নিতে হলে ব্র‍্যান্ডিং এর প্রয়োজনীয়তা কম। আবার অনেকে ব্র‍্যান্ডিং কে এড়িয়ে যান বেশি খরচ বলে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে ব্র‍্যান্ডিং এর ক্ষেত্রে যত দেরীতে ব্র‍্যান্ডিং করা হয় তত বেশি ক্ষতি কোম্পানীরই হয়।  কেননা, ইন্টারনেট কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া ঘাটলে দেখা যায় অনেক কোম্পানী আছে যারা চেষ্টা করছে তাদের সবোর্চ্চ দিয়ে ক্লায়েন্টকে খুশি রাখতে, ক্লায়েন্টদের তাদের সম্পর্কে জানাতে। যদি তারা তাদের ব্র‍্যান্ডিং দ্বারা আপনার আগেই আপনার ক্লায়েন্টের কাছে পৌছে যায় তবে আপনি এবং আপনার কোম্পানী উভয়ই বিপদের মুখে আছেন।    “ব্র‍্যান্ডিং স্টাইল নির্ধারণ” যেকোনো কোম্পানীরই ব্র‍্যান্ডিং এর ক্ষেত্রে একটি আলাদা স্টাইল থাকা উচিত যার মাধ্যমে বোঝা যাবে আপনার কোম্পানী কেমন এবং মার্কেটপ্লেস গুলোতে আপনার কোম্পানীর অবস্থান কিরকম। সেই সাথে এই ব্র‍্যান্ডিং স্টাইলের মাধ্যমে আপনি আপনার ক্লায়েন্টদেরকেও একটি নির্দিষ্ট জায়গায় খুঁজে পাবেন। অর্থাৎ যে কেউ যেন আপনার ব্র‍্যান্ডিং দেখে বলার আগেই বুঝে যেতে পারে যে কোম্পানীটি আপনার।  আপনার কোম্পানীর ব্র‍্যান্ডিং স্টাইল আপনিই নির্ধারণ করতে পারবেন। আর সেই স্টাইলটি হতে পারে অনেক আকর্ষণীয় কিংবা অনেক সাদামাটা। আপনার ব্র‍্যান্ডিং স্টাইল কেমন হবে সেটা আপনি নির্ধারণ করবেন। কিন্তু সকল ধরণের স্টার্ট-আপ কোম্পানীগুলোকে ব্র‍্যান্ডিং এর কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে- • উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য • বিশ্লেষণ • দর্শক তৈরী করা • সঠিক গাইডলাইন ব্রান্ডিং স্টাইল তৈরী করার জন্য দরকার সময় এবং প্রয়োগ। এসব ক্ষেত্রে ততক্ষণ টাকার প্রয়োজন হয় না যতক্ষণ না আপনি আপনার ব্র‍্যান্ডিং এর জন্য কাউকে দিয়ে আপনার কনটেন্ট তৈরী করিয়ে নিচ্ছেন। “লোগো তৈরী” আপনি আপনার ব্র‍্যান্ডিং যেভাবে করবেন অর্থাৎ আপনি আপনার কোম্পানীর ব্র‍্যান্ডিং এর মাধ্যমে আপনার ক্লায়েন্টকে যে মেসেজটি দিবেন এবং আপনার ক্লায়েন্টের উপর যে মনোভাব ব্যক্ত করবেন ঠিক তেমন মনোভাব এবং বার্তা আপনার কোম্পানীর লোগোর মাধ্যমে আপনার ক্লায়েন্টকে দিতে হবে।  কেননা, আপনার এই লোগো আপনার যেকোনো কনটেন্ট হোক তা বিজনেস কার্ড কিংবা আপনার ওয়েবসাইট সবকিছুতেই এই লোগো থাকবে। যদি আপনার কোম্পানীর লোগো আপনার কোম্পানীকেই হাইলাইট না করে তবে সেই লোগোর উদ্দেশ্যই ব্যর্থ।  তাই লোগো তৈরীর পূর্বে খেয়াল করতে হবে আপনি কি ধরণের লোগো তৈরী করতে চান অথবা আপনার ক্লায়েন্ট কি ধরণের লোগো চান। যেহেতু আপনি আপনার সবকিছু ক্লায়েন্টের জন্যই করবেন সেহেতু আপনার লোগোটাকেও আপনার ক্লায়েন্টের জন্যই হতে হবে।  তাছাড়াও লোগো যেহেতু আপনি বার বার পরিবর্তন করতে পারবেন না এবং একটি লোগো দিয়েই আপনার কোম্পানীকে অনেক বছর পার করতে হবে সেহেতু লোগো তৈরীর ক্ষেত্রে চিন্তা ভাবনা করে এবং সৃজনশীলতার সাথে আকর্ষণীয় লোগো তৈরী করা উচিত। “নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরী” প্রতিটি বিজনেস কিংবা কোম্পানীর নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকা উচিত। কেন? সম্প্রতি Deloitte এর এক গবেষণায় দেখা গেছে ছোটখাট ব্যবসা হলেও তার যদি শক্তিশালী এবং অন্যান্যদের থেকে বেশি পরিমাণে আধুনিকভাবে ব্র‍্যান্ডিং করছে তারা প্রতি কাস্টমার থেকে দ্বিগুণ লাভ করছে অন্যান্যদের থেকে। এর কারণ হচ্ছে ওয়েবসাইটগুলো ক্রেতা তৈরী করে, ভোক্তাদের বিশ্বাস বাড়ায় এবং ২৪ ঘণ্টার অনলাইন মার্কেটিং এর উপস্থিতি প্রদান করে।  ওয়েবসাইট তৈরী করা কিছটা ব্যয়বহুল হলেও বর্তমানে ওয়েবসাইটই অন্যতম মাধ্যম যার মাধ্যমে খুব সহজেই কাস্টমারদের বিশ্বাস অর্জন করা যায়। একটি ওয়েবসাইট তৈরী করার পর যখন আপনার কোম্পানী খুব বড় আকার ধারণ করবে তখন সুবিধা অনুযায়ী আপনি চাইলে আপনার ওয়েবসাইটটি আবারো ডেকোরেশন করতে পারবেন। যদি আপনি আপনার কোম্পানী থেকে ইতোমধ্যে যথা সম্ভব টাকা উপার্জন করে ফেলেছেন একটি ওয়েবসাইট তৈরী করার জন্য, তাহলে এখনি সময় আপনার ওয়েবসাইটটি তৈরী করার জন্য। এতে আপনার কোম্পানীকেও সবাই চিনবে এবং আপনার কোম্পানীর টার্গেটও বাড়বে।  “সোশ্যাল মিডিয়া” সামাজিক মিডিয়া বা মাধ্যমগুলো কোনোরকম টাকা ছাড়াই ব্যবহার করা যায় ব্র‍্যান্ডিং এর জন্য। তাছাড়াও সামাজিক মিডিয়া গুলোতে চাইলে ইচ্ছানুযায়ী টাকা প্রদান করেও এডভারটাইজমেন্ট করা যায়। সবকিছু নির্ভর করে আপনার কনটেন্টের উপর। তাছাড়াও সামাজিক মিডিয়া গুলোর মাধ্যমে সহজেই একটি স্থায়ী পরিচিতি দাঁড় করানো যায় যা অন্য কোনো মাধ্যমে অনেক সময় সাপেক্ষ। তবে সকল মিডিয়া আবার একই ভাবে কনটেন্ট এর এডভারটাইজমেন্ট বৃদ্ধি করে না। কোন মিডিয়ায় কেমন এডভারটাইজমেন্ট ব্যবহারকারীদের নিকট পৌছায় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। সেজন্য সামাজিক মিডিয়া গুলো সম্পর্কে একটু ভালো ধারণা রাখা প্রয়োজন।  তাছড়াও সামাজিক মিডিয়া গুলোতে কীভাবে ব্র‍্যান্ডিং করা যায় সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকলে খুব সহজেই স্বল্প পরিমাণ ইনভেস্টমেন্টেই আপনি আপনার কোম্পানীকে একটি ব্র‍্যান্ডেড ল্যুক দিতে পারবেন। তবে সব কিছুকে ছাড়িয়ে সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে আকর্ষক কনটেন্টের যা আপনার কোম্পানীর প্রচারণা করবে এবং আপনার ব্যক্তিত্বকেও তুলে ধরবে। “ব্লগিং” ব্র‍্যান্ডিং এবং কাস্টমার তৈরীর ক্ষেত্রে ব্লগিং এক অন্যতম মাধ্যম। ব্লগিং এর মাধ্যমে আপনি আপনার কোম্পানীর সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারবেন। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ব্লগিং করে আপনি আপনার কোম্পানী সম্পর্কে বলবেন, আপনার কোম্পানীর টার্গেট সম্পর্কে বলবেন এবং বলবেন আপনার কোম্পানী নিয়ে আপনার সুদূর পরিকল্পনা যা আপনার কাস্টমারদের উপর প্রভাব ফেলবে। তাছাড়াও ব্লগিং করে আপনি আপনার প্রোডাক্ট রিভিউ জানাতে পারেন সকলকে। জানাতে পারেন আপনার কোম্পানীর প্রোডাক্টের সুবিধা এবং অসুবিধা।  নিজস্ব একটি ব্লগিং ওয়েবসাইট না থাকলেও অন্যান্য ওয়েবসাইট গুলোকে অতিথি লেখক হিসেবেও চাইলে আপনি লিখতে পারেন। কিংবা আপনার তৈরীকৃত ওয়েবসাইটে আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে লিখতে পারেন। যেখান থেকে আপনার কাস্টমার খুব সহজেই আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানতে পারবে কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই। এছাড়াও বিভিন্ন ইনফ্লুয়েন্সার



দেরকেও আপনি আমন্ত্রণ জানাতে পারেন আপনার ওয়েবসাইটে লেখার জন্য। আপনার কোম্পানীই আপনার ফাউন্ডেশন এবং আপনার ভালোবাসার জায়গা। একটি সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এগুতে থাকলে ব্রান্ডিং এর জন্য খুব বেশি খরচের প্রয়োজন হয় না। তবে ব্র‍্যান্ডিং এর সময় নিজ কোম্পানীকে হাইলাইট না করলেও হবে না। সেজন্য ব্র‍্যান্ডিং থেকে শুরু করে ব্লগিং পর্যন্ত সবকিছুতে প্রফেশনালি কাজ করতে হবে। যাতে আপনার কাস্টমার যেন আপনার প্রোডাক্ট ব্যবহার করে এবং অন্যকেও তা করতে বলে।  তাই ব্র‍্যান্ডিং এতসব আইডিয়া নিয়ে বসে না থেকে আজই শুরু করুন আপনার কোম্পানীর ব্র‍্যান্ডিং।