সফল উদ্যোক্তাদের ৮ টি বৈশিষ্ট্য

একজন সফল উদ্যোক্তা তারাই যারা একই সাথে অনেকগুলো কাজ কীভাবে করা যায় তা ভাবতে পারে এবং একই সাথে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে কীভাবে করা যায় তা চিন্তা করতে পারে। একজন সফল উদ্যোক্তা একই সময়ে অনেকগুলো দায়িত্ব মাথায় নেয় এবং অনেকগুলো পরিচয় একইসাথে বহন করে। সে একজন প্রোজেক্ট ম্যানেজার, একজন হিসাবরক্ষক যে কিনা যেকোনো ঝুঁকি নিতে পারে এবং আরো অনেক। একজন উদ্যোক্তাকে অনেকভাবে সংজ্ঞায়ন করা যায়। তবে BusinessDictionary এর ভাষ্যমতে,  “An entrepreneur is someone who exercises initiative by organizing a venture to take benefit of an opportunity and, as the decision maker, decides what, how, and how much of a good or service will be produced.” অর্থাৎ একজন উদ্যোক্তা সেই যে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে, নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছে এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কীভাবে একটি ভালো সার্ভিস দেওয়া যায় ক্লায়েন্টদের।  এসকল গুণগুলো প্রত্যেক উদ্যোক্তাদের জন্যই আবশ্যক। সকল নতুন উদ্যোক্তাদের এই গুণগুলো মাথায় রেখে উদ্যোগী হতে হবে। সেজন্য করতে হবে যথাযথ পরিশ্রম। তাছাড়াও একজন সফল উদ্যোক্তার আরোও কিছু গুণ থাকা প্রয়োজন।  ১. সফল উদ্যোক্তারা উচ্চাভিলাষী: একজন সফল উদ্যোক্তার অবশ্যই একটি উচ্চাকাঙক্ষার স্বপ্ন দেখা উচিত এবং সেটি হতে হবে আকাশ সমান বড়। নতুবা একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব নয়। কেননা, যত বড় স্বপ্ন তত বেশি কাজ এবং সমস্যা। আর এত এত সমস্যা গুলোকে একজন সফল উদ্যোক্তা কখনোই ভয় পায় না। বরং সাদরে আমন্ত্রণ জানায়। কেননা,সে নিজেও জানে একজন সফল উদ্যোক্তা হতে হলে তাকে অনেক বেশি বেশি সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। সে যত বেশি সমস্যার সম্মুখীন হবে তত বেশি তার অভিজ্ঞতা বাড়বে তার কাজের সম্পর্কে। সে জেনে যাবে কোন সমস্যা কীভাবে পার হতে হয়। আর বিপদকে ভয় না পাওয়ার এই গুণগুলো একজন মানুষকে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরী করে।  ২. সফল উদ্যোক্তারা সুযোগ সন্ধানী একজন সফল উদ্যোক্তাকে সঠিক ভাবে সংজ্ঞায়িত করে এমন একটি জিনিস হচ্ছে তার সম্ভাব্য সুযোগগুলোকে খুঁজে বের করার ক্ষমতা। একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার মানে হচ্ছে: সম্ভাব্য সমস্যা এবং সুযোগগুলি সন্ধান করা এবং এই সমস্যার বাস্তব সমাধান সরবরাহ করা। নতুন নতুন সুযোগগুলোকে আবিষ্কার করা এবং তার মধ্যে নিজের জন্য যেই সুযোগটি প্রয়োজন তা বাছাই করা একজন সফল উদ্যোক্তার জন্য হওয়া উচিত একটি সাধারণ নিয়ম। “Clicky” এর নির্মাতা, সান হ্যামনস-এর দিকে নজর দিন। গুগল যখন  একটি রুমে থাকা বড় হাতিকে বিশ্লেষণ করছিল, সে দেখেছিল যে প্রিমিয়াম বিশ্লেষণ পরিষেবা তৈরি করার সুযোগ ছিল যা সহজে ব্যবহারযোগ্য ইন্টারফেসের সাথে রিয়েল-টাইম বিশ্লেষণ সরবরাহ করেছিল। যেহেতু Google Analytics (তখনকার সময়ে), রিয়েল-টাইম বিশ্লেষণ অফার করে নি, এটি Clicky এর একটি প্রধান বিক্রয় বিন্দু হয়ে ওঠে এবং এই কারণে এটি আজ এত জনপ্রিয়। ৩. সফল উদ্যোক্তারা লক্ষ্য ভিত্তিক, শৃঙ্খলাবদ্ধ, সুসংগঠিত এবং চিত্তাকর্ষক একদম মাটি থেকে উঠে আসা একটি ব্যবসা থেকে সহজেই চলমান একটি ব্যবসা পাওয়া সহজ মনে হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, স্বল্প সংখ্যক স্টার্ট-আপ প্রথম কয়েক বছরেরও বেশি সময় ধরে বেঁচে থাকে এবং পরবর্তীতে বড় ব্যবসা হয়ে যায় এবং এ কারণে শুধুমাত্র অল্পসংখ্যক উদ্যোক্তারা সফল হতে পারেন এবং তাদের ব্যবসাকে বড় করে তোলেন। তাছাড়াও যারা নিজেদের কাজ এবং নিজেদের ছোট, বড় সকল ধরণের লক্ষ্য এবং অব্জেক্টিভ নিয়ে চিন্তা করেন তারা তাদের কাজ এবং ব্যবসার সকল ধরণের কাজে মনোনিবেশ করেন। এর উদাহরণ হল শেন মেলহাউ এবং থ্রাইভ থিমস পল ম্যাকার্থি। তারা রূপান্তর ফোকাস ওয়ার্ডপ্রেস থিম এবং প্লাগইন তৈরি লক্ষ্য সঙ্গে স্ক্র্যাচ থেকে একটি সম্পূর্ণ সদস্যপদ তৈরি। কয়েক বছর পর, তারা দুর্দান্ত সাফল্যপ্রাপ্ত পণ্য যেমন থ্রাইভ লিডস এবং থ্রাইভ কনটেন্ট বিল্ডার প্রকাশ করে তাদের খ্যাতি গড়ে তুলেছেন। ৪. সফল উদ্যোক্তারা তারাই, যারা কঠোর পরিশ্রমী এবং নিজ কাজকে ভালোবাসে সফল ব্যবসায়ীরা যে কাজ করেন, তারা সেই কাজগুলোকে আপন করে নেন সেই কাজকে ভালোবাসেন। তাদের কাছে তাদের কাজ শুধু কাজ নয়, তাদের জন্য এই কাজ তাদের জীবনস্বরূপ। সফল মানুষদের কাছে তাদের কাজ তাদের প্রতিদিনে বেলা ৯টা থেকে বিকেল ৫টা অব্দি করে যাওয়া কাজ নয়। তাদের কাছে তাদের কাজ মানে তাদের জীবনের সবটুকু। সেজন্য তারা দিন রাত কঠোর পরিশ্রম করে যায় তাদের লক্ষ্য গুলোকে সাধন করতে। কিন্তু এর মানে এই না যে, তারা তাদের কাজ ছাড়া কিছু বোঝে না। তারা জানে কীভাবে কঠোর কাজ করতে হয় এবং সেই সাথে স্মার্টভাবে চলতেও হয়। ৬. সফল উদ্যোক্তারা ঝুঁকি নিতে ভয় পাননা সফল উদ্যোক্তারা ঝুঁকি নিতে ভয় পান না, তারা সকল ঝুঁকির সাথেই মুখাপেক্ষি করেন, ঝুঁকির সাথেই তারা প্রতিযোগিতা করেন। তাদেরকে প্রায় প্রতিদিনই ঝুঁকি নিতে হয়। এটা তাদের নিত্যদিনের কাজ। ঝুঁকি নেওয়ার বিষয়ে যদিও সফল উদ্যোক্তারা গণনামূলক ঝুঁকি নেয় না, নেয়না নির্বোধের মতও। এর মানে হল যে তারা যে সকল সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়, প্রতিটি পদক্ষেপের বিবেচনার সুবিধা এবং অসুবিধাগুলি গ্রহণ করে, সম্ভাব্য ফলাফলগুলি সন্ধান করে এবং সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে একটি বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ৭. সফল উদ্যোক্তারা ভুল করতে ভয় পায় না, ভয় পায় না ব্যর্থ হতেও তাদের এই অকুতোভয়ের কারণ হচ্ছে তারা জানে তাদের কাজের ক্ষেত্রে এই ভুল এবং ব্যর্থতা নিত্যদিনের সঙ্গী। তাই তারা প্রতিটি ভুল থেকেই শিক্ষা নেয় এবং সে অনুযায়ী কাজ করে। আপনি এমন কোনো উদ্যোক্তা খুঁজে পাবেন না যাকে খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়নি, কটুকথা শুনতে হয়নি কিংবা বড় কোনো ভুল করেনি। “সূর্য পূর্বদিকে উঠে” একথা যেমন সত্য, তেমন সত্য কোন উদ্যোক্তাই ভুলের বাইরে নয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা হালও ছেড়ে দেয় সেই ভুলের কারণে।  কিন্তু সফল উদ্যোক্তারা ভুল করে থেমে থাকে না। তারা বরং আরোও শক্ত হয়। ভাবে, “নতুন কিছু শিখলাম”। সেজন্য তাদের কাছে প্রতিটি ভুল একেকটি শিক্ষণীয় ব্যাপার। তাদের কাছে ভুল মানেই নতুন সুযোগের সন্ধান পাওয়া, নতুন করে কিছু আবিষ্কার করা। এ সম্পর্কে মাইকেল ডেল বলেন,  “Recognize that there will be failures, and acknowledge that there will be obstacles. But you will learn from your mistakes and the mistakes of others, for there is very little learning in success.” ৮. সফল উদ্যোক্তারা জানেন সফল হবার মানে কী? সফল উদ্যোক্তারা নিজেরাই নিজেদের চ্যালেঞ্জ করেন এবং নিজেদের সাথে কম্পিটিশন করেন আরও জানার জন্য আরও নতুন কিছু আবিষ্কার করার জন্য। তারা জানে তাদের কাজের ক্ষেত্রে এমনও কিছু সময় আসবে যেখানে কাজ কিংবা সে নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, বিপদের সম্মুখীন হবে। এই বিপদগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের পক্ষে এড়ানো কঠিন।  সফল উদ্যোক্তারা জানেন তারা কতদূর পর্যন্ত কাজ করতে পারবেন কিংবা তাদের কাজের যোগ্যতা কতদূর। তারা তাদের নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে থাকে এবং বাড়াতে থাকে তাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা। যাতে তারা আরোও অভিজ্ঞ মানুষের সাথে কাজ করতে পারে এবং তাদের কাজের লিমিটেশন পার করেও আরোও কাজ করতে পারেন। SmartPassiveIncome এর Pat Flynn এর কথা আমরা অনেকেই জানি। তিনি পাবলিক্লি কথা বলতে চাইতেন। কিন্তু তিনি এই বিষয়ে দক্ষ ছিলেন না। তাই সে বারংবার নিজেকে অনুশীলনের মধ্যে রেখেছিল। এমনকি সে নিজেকে নিজেই জোড় করেছিল কনফারেন্স গুলোতে যাওয়ার জন্য।  অবশেষে সে নিজেকে এমন একটি পর্যায়ে দাড় করিয়েছে যেলহানে সে হচ্ছে সবচেয়ে দামী পাবলিক স্পিকার এবং আপনার তাকে দেখতে পারবেন বিভিন্ন কনফারেন্সে প্রধান বক্তা হিসেবে। উপরের বৈশিষ্ট্য গুলো একজন সফল উদ্যোক্তার। যা আসন্ন সকল উদ্যোক্তাদের থাকা বাঞ্চনীয়। তবে অবশ্যই বৈশিষ্ট্য গুলো একদিনে নিজেদের ভেতর আনা সম্ভব নয়। এই বৈশিষ্ট্যগুলো নিজেদের মধ্যে আনতে হলে অবশ্যই পরিশ্রম করতে হবে এবং নিজ কাজগুলোকে ভালোবাসতে হবে।

সফল উদ্যোক্তার ৮ বৈশিষ্ট্য