ব্যবসায়ের সূচনাঃপর্ব ২

আমরা গত পর্বে জেনেছি  ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে কি ধরনের বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হয়।সংক্ষেপে সে বিষয়গুলোর সম্পর্কে ধারনা দিয়েছি।আজ বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।আশা করি সাথেই থাকবেন।চলুন শুরু করি...


আপনি ব্যবসার সকল বিষয় সম্পর্কে জেনেছেন কি কি ধরনের মাধ্যম গুলো ব্যবসার সাথে সম্পর্কিত।কিন্তু আপনি সেই বিষয়গুলোর বিস্তারিত জানেন না।তাই আপনাকে যেকাজ করতে হবে তা হল হাতে যথেষ্ট সময় নিয়ে জানতে হবে,বলতে পারেন এক প্রকার গবেষনা করতে হবে।ব্যবসার আদি এবং বর্তমান প্রক্রিয়া কিন্তু এক।তা হল কাস্টোমারের চাহিদা।অর্থাৎ,আপনার ব্যবসার একাংশ নির্ভর করছে কাস্টোমারের উপর।এখন আপনি ভাবছেন ব্যবসা তো শুরু করবো কিন্তু কোন বিষয়ে তো গবেষনা করা হল না।তাহলে বলবো এখনই সময় গবেষনা করে ফেলুন,কিছু দিনের জন্য না হয় গবেষক হয়ে যান।



ব্যবসায়ের সূচনা পর্ব ২

একটি ব্যবসা শুরু করার প্রথম অধ্যায় হল উদ্যোগ নেওয়া।আপনি যদি আপনার ব্যবসার জন্য কোন প্রকার উদ্যোগ না নেন তাহলে কিন্তু আপনার ব্যবসার কোন উন্নতি হবে না।আপনাকে ব্যবসা শুরু থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে উদ্যোগ নিতে হবে।কারন আপনার ব্যবসার উন্নতি বা সফলতার চাবি হবে আপনার উদ্যোগ নেওয়ার মানসিকতা।আপনি কতটা ঝুঁকি নিতে পারেন তা আপনার ব্যবসার মাধ্যমে প্রকাশ পাবে।

উদ্যোগ নেওয়ার ফলে একজন ব্যবসায়িকে ধীরে ধীরে অভিজ্ঞ করে তোলে।যার ফলে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে একজন উদ্যোক্তা।আপনার ব্যবসায় করার সময় যে উদ্যোগ নিবেন সেই উদ্যোগ আপনার বর্তমান এবং ভবিষৎ নির্ধারন করবে।

যিনি উদ্যোগ নিবেন তিনি একজন উদ্যোক্তা সাথে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করবে।তবে আমরা কি জানি প্রথম পর্যায়ে এবং সবসময় একজন উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী কি গুন থাকে?কেন তারা সফলতা পায়?পৃথিবীর যত জ্ঞানী গুণী উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী আছেন সকলেই কিন্তু কোন না কোন গুণ নিজের মধ্যে ধারন করেছেন বলেই আজ তারা সফল ব্যবসায়ীর কেতাব জিতে নিয়েছেন।

তাহলে,এখন আমরা জানবো একজন ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তার কি কি গুন থাকা প্রয়োজন।


আত্নবিশ্বাস

একজন উদ্যোক্তার আত্নবিশ্বাস খুব গুরুত্বপূর্ণ।আপনার যদি কোন আত্নবিশ্বাস না থাকে তাহলে কিন্তু আপনি নিজে কোন উদ্যোগ নিতে পারবেন না।আবার ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষেত্রেও কিন্তু আত্নবিশ্বাস প্রয়োজন।এই আত্নবিশ্বাস আপনাকে উদ্যোগ নিতে সাহায্য করবে সাথে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বাড়াবে।


ঝুঁকি নেওয়া

ঝুঁকি নেওয়ার জন্য আপনাকে সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে।আপনার ব্যবসার অনেকাংশ নির্ভর করবে আপনার ঝুঁকি নেওয়ার উপর।যদি আপনি শক্ত মনোবলে ঝুঁকি নিন আপনি সফল হবেন।কিন্তু যদি আপনি ঝুঁকি নিতে ভয় পান তাহলে আপনার ব্যবসায় পড়ে যাবে ঝুঁকিতে।


দূরদর্শিতা

আপনার ভবিষৎ দেখতে হবে।এই গুণ থাকা সত্যিই আবশ্যক।আপনার ব্যবসায় শুরু করার আগেই আপনাকে জানতে হবে আপনি আগামী ১০ বছরে আপনার ব্যবসাকে কোন পর্যায়ে দেখতে চান।আপনাকে ব্যবসার ভালো,খারাপ বোঝার গুন থাকতে হবে।যারা নিজের বর্তমান ভবিষৎতের খুব নিখুঁত প্ল্যান করে তারা সফলতা পায় খুব সহজে।


সততা

আপনার কাজের ক্ষেত্রে আপনাকে সৎ হতে হবে।আপনার সততার কারনে আরও দুটি মানুষ আপনার উপর নির্ভর করতে পারবে।আপনার সততার কারনে আপনাকে বিশ্বাস করবে।সততা এমন একটি মন্ত্র যা দ্বারা যেকোন কিছু খুব সহজে পাওয়া যায়।


ধৈর্য্য

একটি ব্যবসা করার জন্য অবশ্যই ধৈর্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।আপনার ধৈর্যের সাথে সকল বিষয় দেখাশুনার মত মনোবল থাকতে হবে।আপনি যদি ধৈর্য হারান তাহলে আপনিও হেরে যাবেন।তাই আপনার এই গুণ অবশ্যই নিজের মধ্যে ধারন করতে হবে।

এই সকল গুণগুলো একজন উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ীর মধ্যে থাকা উচিত এবং বড় বড় পৃথিবীর উদ্যোক্তারা এই গুণগুলো নিজের মধ্যে ধারন করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।


এখন আসা যাক আপনি কোন বিষয়ে উদ্যোগ নিতে পারেন।কিছু আইডিয়া আপনাকে দিয়ে সাহায্য করি।

যেহেতু বর্তমান সময় প্রযুক্তি নির্ভর,সেক্ষেত্রে প্রযুক্তির মাধ্যমে কোন কাজ করলে বেশি লাভ করার সম্ভবনা থাকে।আমাদের দেশে পার্কিং সমস্যা সব সময়।সেক্ষেত্রে আপনি পার্কিং নিয়ে বিজনেস গ্রোআপ করতে পারেন।পার্কিং ব্যবস্থা করে দিতে পারেন সাধারন মানুষের জন্য।অ্যাপের মাধ্যমে এই সেবা দেওয়ার একটা চিন্তা ভাবনা করতেই পারেন।

আবার আমাদের দেশে কৃষি নির্ভর ব্যবসা তেমন নেই বললেই চলে সেক্ষেত্রে আপনি কিন্তু নতুন আইডিয়া নিয়ে মাঠে নামতে পারেন।কারন আমাদের দেশে কৃষি নির্ভর ব্যবসা সবচেয়ে লাভজনক।এখনকার সময় টাটকা সবজি কোথায় পাওয়া যায় বলুন!সে ব্যবস্থা করে দিতে পারেন আপনি।আবার খাঁটি দুধ পৌঁছে দিতে পারেন সাধারন মানুষের কাছে।তবে মাথায় রাখবেন ব্যবসা করার আগে পরিবেশ এবং মানুষের চাহিদা নির্ভর ব্যবসার আইডিয়া বাছাই করবেন।কারন আপনি যদি পরিবেশ এবং চাহিদা নির্ভর ব্যবসা না দাড় করান তাহলে আপনি ব্যবসা সেখানেই শেষ।


কাস্টমার নিয়ে ভাবুন

এই টপিকটা খুব গুরুত্বপূর্ণ,কারন আপনার ব্যবসার সম্পূর্ণ বিষয়টি কিন্তু কাস্টমারের উপর নির্ভর করে।আপনি কি ব্যবসা করবেন তাও কাস্টমারের চাহিদা নির্ভর।কারন আপনার ব্যবসার মূল বিষয়বস্তু তারা।তাদের জন্যই আপনার পরিশ্রম এবং ঝুঁকি নেওয়া।আপনার ব্যবসার কোন পন্যটি কাস্টমারকে আকর্ষন করবে কোন পন্যটার চাহিদা সবচেয়ে বেশি এসকল কিছুওই কিন্তু নির্ভর করবে কাস্টমারের উপর।

আরও কি ধরনের নতুন সুবিধা বা অফার কাস্টমারের উপযোগী তা নিয়ে আপনাকে চিন্তা ভাবনা করতে হবে।আপনি যদি একটি হোটেল বা ক্যাফে ব্যবসা চালু করেন তাহলেও কিন্তু আপনাকে প্রথমেই ভাবতে হয় কি ধরনের খাবার মানুষ পছন্দ করবে কোন খাবারটা বেশি চলবে।আপনার হোটেলে যদি ভাত না পাওয়া যায় তাহলে কিন্তু কোন কাস্টমার আস্তে পছন্দ করবে না।কারন একটাই কাস্টমারের চাহিদা ভাতের প্রতি আর সে খাবারটাই নেই আপনার হোটেলে।অর্থাৎ,আপনার ব্যবসার মূল এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে কাস্টোমার এবং তাদের চাহিদা।তাদের চাহিদা অনুযায়ী আপনার ব্যবসায়ের বর্তমান এবং ভবিষৎ নির্ভর করবে।য়াপনি যদি সৎ থাকেন কাস্টমারকে সঠিক পন্য বিক্রি করেন,কখনও না ঠকিয়ে থাকেন তাহলে সমাজে আপনার একটা সুনাম তৈরি হবেই এটা স্বাভাবিক সাথে আপনার ব্যবসা-বানিজ্য বৃদ্ধি পাবে।তাই ভাবুন কাস্টোমার নিয়ে,তবেই ব্যবসায় সফলতা আসবে।

আপনার উদ্যোগের প্রথম শুরু হবে এই সকল গুনগুলো নিজের মধ্যে ধারন করা।আপনার এই সকল গুন নিজের মধ্যে ধারন করার ফলে আপনি ব্যবসাকে শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন।আপনার ব্যবসার সকল সুবিধা অসুবিধা আপনি বুঝতে পারবেন।যা একজন উদ্যোক্তাকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যায়।আপনার ব্যবসার সাথে যারা ওতপ্রোত ভাবে জড়িত থাকবে তাদের প্রতি আপনার দায়িত্ব-কর্তব্য আপনাকে ব্যবসা প্রসারিত করতে সাহায্য করবে।আপনাকে একজন লিডারের মত দায়িত্ব পালন করতে হবে।যাতে আপনার কর্মচারী এবং কাস্টোমার আপনাকে বিশ্বাস করতে পারে,আপনার উপর নির্ভর করতে পারে।

আজ আমরা জেনে নিলাম ব্যবসার জন্য নিজেকে কিভাবে পরিবর্তন করতে হয় বা কিধরনের গুণ নিজের মধ্যে ধারন করতে হয়।আমরা পরের পর্বে জানবো ব্যবসায় মার্কেটিং কিভাবে সাহায্য করে।তাহলে আজ এ পর্যন্তই ...চলবে।

115 views0 comments