সদ্য স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য কিছু পরামর্শ

স্নাতকের পরেই ছাত্র জীবনের মূল অংশটির সমাপ্তি ঘটে। স্নাতকের শেষ প্রান্তে এসে সবার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। সুদীর্ঘ প্রায় ১৬-১৭ বছর টানা ছাত্র হিসেবে কাটিয়ে স্নাতক এর পর হঠাৎ করেই যেন অনেক বড় হয়ে যেতে হয়। হাজারো দায়িত্ব এবং কর্তব্য হঠাৎ করেই ঘাড়ে এসে পড়ে। এভাবেই ছাত্র জীবন থেকে বেরিয়ে বাস্তবতার সাথে পাল্লা দিয়ে নিজের প্রতিটি পদক্ষেপ নেয়া এবং সময়ের সাথে এগিয়ে চলা শিখতে হয় খুবই অল্প সময়ের মধ্যে।  এই সময়টি সকলের জীবনেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি সময়। এই সময়ে মানসিক বিকাশ ও অপরিপক্কতা লাভ অনেক দ্রুত হয়ে থাকে। অনেক বড় বড় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এই সময়টাতে নিতে হয় যা পরবর্তী জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা রেখে থাকে। তাই প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেবার ব্যাপারে অনেক সাবধান ও বিচক্ষণ হতে হয়। অনেকেই স্নাতকের পর সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে অনেক ভুল করে থাকেন,অনেকে বেশ কিছু সময় নষ্ট করে ফেলেন, অনেকে আবার সব বিষয় নিয়ে দ্বিধা বা দ্বন্দ ভোগেন,যা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সোজা পথে এগিয়ে যাবার পথে অন্তরায়। এজন্য এই সময়ে প্রয়োজন হয় কিছু উপযুক্ত দিকনির্দেশনা, পরামর্শ ও উপদেশের যা আপনাকে জীবনের পরবর্তী ধাপগুলোতে এগিয়ে নিয়ে যাবে আপনার কাংখিত পথে ও এনে দিবে প্রতীক্ষিত সফলতা।টহে স্নাতকের পরে আপনার ক্যারিয়ার সুন্দরভাবে গঠন করতে হলে যা করতে হবে তার কিছু নির্দেশনা নিয়েই আজকের আলোচনা। স্নাতকের পরে আপনার সামনে বেশ কিছু পথ খোলা থাকে। ভিন্ন ভিন্ন ধরনের এসব পথগুলো হলো- ১. পূর্ণাঙ্গ চাকরি - স্নাতকের পর আপনার সামনে সবচেয়ে সহজ ও সাধারণ পথটি হলো পূর্ণাঙ্গ বা ফুল টাইম চাকরি নেয়া৷ আপনি যে বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন,অর্থাৎ যে বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন সে বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো একটি পূর্ণাঙ্গ চাকরি নেয়াটা অনেকেই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করেন। এর মাধ্যমে যেমন আপনার একটি স্থায়ী আয়ের উৎস তৈরি হয়, তার ওপর আপনার চাকরির অভিজ্ঞতাও তৈরি হয়। তবে বর্তমান চাকরি বাজারে তীবর প্রতিযোগিতার মধ্যে চাকরির সুযোগ পাওয়াও অনেক কঠিন হয়ে উঠেছে। ২. স্বনিয়োগ - স্নাতক সম্পন্ন করেই আপনি নিজেই উদ্যোগ নিতে পারেন। উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার মাধ্যমে আপনি নিজেই নিজের কাজের ব্যবস্থা করছেন এবং তার সাথে আরও কিছু মানুষের কাজের যোগান দিয়ে থাকবেন। এভাবে উদ্যোগ নেয়ার ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই এমন ধরনের উদ্যোগ মাথায় রাখতে হবে যেখানে আপনি আপনার ছাত্রজীবনে শেখা তাত্ত্বিক বিষয়গুলোকে বাস্তবে রূপান্তরের মাধ্যমে কাজ করতে পারবেন। তবে

এই পথটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বেশ ভেবে চিন্তে নিতে হবে। ৩.স্নাতকোত্তর পড়াশোনা - যদি ছাত্রজীবন আপনার মনে ধরে যায় এবং আপনি আপনার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরো কিছু শিখতে চান, তবে আপনার জন্য স্নাতকের পরেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া একটি উপযুক্ত পদ্ধতি। দীর্ঘমেয়াদি কোনো কোর্স করার চেয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বল্পমেয়াদি কোর্সগুলো অধিক ফলদায়ক। তবে কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত তা অবশ্যই আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করবে। ৪. ক্ষণস্থায়ী অবসর - অনেকেই এই সিদ্ধান্তটিকে অবান্তর ভেবে থাকবেন। তবে সত্যি বলতে কি - এতো বছর টানা পড়াশোনার প্রচন্ড চাপে থাকার পরে কিছুদিনের জন্য সকল কাজ বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ অবসর কাটানো একটি বেশ ভালো আইডিয়া। এই সময়টি আপনি নিজের উন্নতি ঘটাতে ব্যবহার করতে পারেন। যেমন - আপনি কোন নতুন ভাষা শিখতে পারেন, ভ্রমণ করতে পারেন, সফ্ট স্কিল উন্নত করতে পারেন। এতে করে আপনার শুধু পূর্ববর্তী বছরগুলোর ক্লান্তিই কাটবে না আপনাকে পরবর্তী বছরগুলোর জন্যও প্রস্তুত করে তুলবে।

45 views0 comments

Recent Posts

See All