top of page

ব্যর্থতাকে জয় করবেন কিভাবে?

আপনি একজন সফল উদ্যোক্তা হতে চান? চাকরিতে সফলতা অর্জন করে পদোন্নতি পেতে চান? কিংবা পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে একজন সফল ছাত্র হতে চান? আপনার লক্ষ্য যাই হোক না কেন লক্ষ্য সাধনের পথে আসবে হাজারও বাধা। আর পথের এসকল বাধার মধ্যে সবচেয়ে বড় ও প্রভাবশালী বাধা হচ্ছে - ব্যর্থতা।  ব্যর্থতা আপনার আত্মশক্তি ও আত্মবিশ্বাস সম্পূর্ণভাবে ধংস করে দিয়ে আপনাকে হতাশার দিকে ঠেলে দিতে পারে যদি আপনি না জানেন কিভাবে ব্যর্থতার সাথে লড়াই করতে হয়। কিন্তু  যদি আপনি কোনো কাজে একবার ব্যর্থ হয়েও আবার উঠে দাড়ান, লড়ে যেতে পারেন এবং আত্মশক্তি ও আত্মবিশ্বাস অটুট রেখে এগিয়ে যেতে পারেন তবেই আপনার মূল লক্ষ্য একদিন না একদিন অবশ্যই সাধিত হবে।  ব্যর্থতাকে কেউ একবারে এড়িয়ে যেতে পারেন না। ব্যর্থতা জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। পৃথিবীর ইতিহাসে কেউ কখনো একবারও ব্যর্থতার মুখ না দেখে জীবনে সফলতা অর্জন করতে পারেনি বা তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। কিন্তু ব্যর্থতাকে কিভাবে সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায় তা অনেকেই জানেন না। ব্যর্থ হয়ে শুধু হাল ছেড়ে দিয়ে বসে থাকলেই চলবে না, সঠিক পদক্ষেপসমূহ নিয়ে উঠে দাঁড়াতে হবে। ব্যর্থতাকে জয় করার কৌশলগুলো -

১. মানসিক স্থিতিশীলতা - ব্যর্থতার পরেই যে জিনিসটা সামাল দেয়া সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো নিজের মানসিক অবস্থা ঠিক রাখা এবং মানসিকভাবে স্থিতিশীলতা অর্জন করা। কারণ ব্যর্থতা মানুষের মনকে সবচেয়ে বেশি আঘাত করে। আর এই অবস্থাকে সামাল দেয়া বেশ জরুরি। যতক্ষণ না আপনি নিজের মুখে হাসি ফুটিয়ে এগিয়ে যেতে পারছেন ততক্ষণ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যান নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য।

২. ভুল থেকে শেখা - আপনার ব্যর্থতার পেছনে অবশ্যই কিছু ভুল রয়েছে। আপনাকে সেই ভুল ত্রুটি

খুঁজে বের করতে হবে এবং সেসব ভুল সংশোধন করতে হবে। তবেই পরবর্তীতে এই কাজটি করতে গেলে একই ভুল আবার হবে না, আপনি লক্ষ্য পূরণের নির্ভুল পথটি খুঁজে পাবেন। ফলে সফলতার পথে আপনি যাবেন আরো এক ধাপ এগিয়ে।

৩. ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী বজায় রাখা - একবার ব্যর্থতার দেখা পেয়ে আপনি হয়তো ভাবছেন এখানেই সব শেষ। আর কোনোদিন আপনি ঘুরে দাড়াতে পারবেন না এ অবস্থা থেকে, কখনো দেখতে পারবেন না সাফল্যের আলো। আপনার এই ভাবনা কোনো অংশেই সত্যি নয়। একবার ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী বজায় রাখতে হবে। ভেঙে পড়া যাবে না বা হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেয়া যাবে না। মনে দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে যে - চেষ্টা করলেই আমি পারব।

৪. উন্নতির সুযোগ খুঁজুন - যখনই আপনি একবার কোনো কাজে ব্যর্থ হন, তারপরেই আপনাকে সেই কাজে বা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে উন্নতি সাধন করতে হবে। অর্থাৎ নিজের দক্ষতা ও ক্ষমতাকে শাণিত করে তুলতে হবে যাতে পুনরায় ব্যর্থতার দেখা পাবার সম্ভাবনা কমে যায়।

৫.পরিকল্পনা করুন - ব্যর্থতার সম্মুখীন হওয়ার পর আপনি যখন ঘুরে দাড়াতে যাবেন, তখন আপনার প্রয়োজন হবে একটি পরিকল্পনা। যে পরিকল্পনা ধরে আপনি ধাপে ধাপে আগাতে পারবেন। সেই পরিকল্পনার জন্য আপনাকে নিজের ক্ষমতা ও দক্ষতা সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে এবং সে অনুযায়ী কর্মতালিকা পরিকল্পনা তৈরি করে নিতে হবে।

৬. আপনি একাই ব্যর্থ নন - মনে রাখবেন যে আপনি একাই কোনো কাজে ব্যর্থ হননি। সকলেই জীবনের একটি পর্যায়ে গিয়ে ব্যর্থ হন। আপনার জীবনের আইকনরাও একসময় না একসময় ব্যর্থ হয়েছিলেন। আজ বিশ্বে যারা সফল হিসেবে নাম কুড়িয়েছেন, তারা সকলেই জীবনে ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়েছিলেন।

তাই ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন এবং সামনে এগিয়ে যান।নিজের সাথে প্রতিজ্ঞা করুণ এভাবে-

ব্যর্থতার ভয় আর করি না

আত্নবিশ্বাস এখন তুঙ্গে,

সফল আমি হবোই হবো

রুখবে আমায় কে?

81 views0 comments
bottom of page